১। রোজার ফরজিয়ত সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তা তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।
ইমাম আদ-দারাকুতনী বলেছেন, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেজগার অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে চলতে পার।
এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, রোজা একটি মহান ইবাদত এবং এটি আত্মসংযম ও খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যম।
২। রমজান মাসের মর্যাদা সম্পর্কে নবীর বাণী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমান এবং সওয়াবের আশায় রমজানের পুরো মাস রোজা রাখবে, তার সমস্ত পূর্বেকৃত পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।
৩। তারাবীর নামাজের ফজিলত
وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি রমজানে ঈমান এবং সওয়াবের আশায় রাত জেগে নামাজ (তারাবীহ) পড়বে, তার সমস্ত পূর্ববর্তী পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।
৪। লাইলাতুল কদরের মর্যাদা
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
লাইলাতুল কদর (শবে কদর) এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।
৫। রমজানে দান-সদকার বিশেষ গুরুত্ব
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ
রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন এবং রমজান মাসে তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন।
৬। রোজার বিশেষ দোয়া - ইফতারের সময়
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِن شَاء اللَّهُ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফতারের সময় বলতেন: ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা দূর হয়েছে, রগ সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব অবশ্যই নিশ্চিত হয়েছে।
৭। রোজাদারের মুখের সুগন্ধ
لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَىٰ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
রোজাদারের মুখের সুগন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরির সুগন্ধের চেয়ে বেশি প্রিয়।
৮। রোজার সাওয়াব অসীম
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য কিন্তু রোজা তো আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।
১। রজব ও শাবান মাসের দু'আ
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
২। ইফতারের সময় পড়বে
يَا وَاسِعَ الْمَغْفِرَةِ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: ইয়া ওয়াসিআল মাগফিরাহি ইগফির লি।
অর্থ: হে মহান ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন।
৩। ইফতারের সময় এ দু'আ পড়বে
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুম্তু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনার রিজকের মাধ্যমে ইফতার করছি।
১। দিনের বেলা রোজা রাখাকে ফরজ করে পবিত্র কুরআন
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেভাবে তা তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।
২। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من صام رمضان إيماناً واحتساباً غُفرَ له ما تقدم من ذنبه
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি রমজানের সম্পূর্ণ মাস ঈমান এবং সওয়াব অর্জনের নিয়তে রোজা রাখবে, তার সমস্ত পূর্বেকৃত পাপ মাফ করে দেওয়া হবে। - সহীহ বুখারী ও মুসলিম
১। চাঁদ দেখা সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ
মানুষ আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বলুন, এগুলো মানুষ এবং হজের জন্য সময় নির্ধারণের মাধ্যম।
२। চাঁদ দেখা এবং রমজানের সম্পর্ক
صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِن غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ
নতুন চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার করো। যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তবে (৩০ দিনের হিসাব করে) অনুমান করো।
३। চাঁদ দেখার ফজিলত
مَنْ رَأَى الْهِلَالَ فَأَخْبَرَ بِهِ كَانَ مِنَ الْمُجَاهِدِينَ
যে ব্যক্তি চাঁদ দেখে এবং সবাইকে জানিয়ে দেয় সে মুজাহিদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়।
४। রমজানের শুরু এবং শেষে চাঁদের গুরুত্ব
لَا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْا الْهِلَالَ وَلَا تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ
যতক্ষণ না চাঁদ দেখবে তখন পর্যন্ত রোজা শুরু করবে না এবং যতক্ষণ না চাঁদ দেখবে তখন পর্যন্ত ইফতার করবে না।
১। তারাবীর নামাজের ফজিলত
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাত জেগে নামাজ (তারাবীহ) আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
২। রাসূল (সা.) কর্তৃক তারাবীর নামাজ পড়ানো
صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى بِصَلَاتِهِ نَاسٌ، ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ: قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ، فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلَّا أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ
রাসূলুল্লাহ (সা.) একরাতে মসজিদে নামাজ পড়লে কিছু লোক তাঁর সাথে নামাজে শরিক হন। পরের রাতে লোকসংখ্যা আরও বেড়ে গেলে তিনি আর বের হননি। সকালে তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাজ দেখেছি, তোমাদের কাছে বের না হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, আমার আশঙ্কা হয়েছিল যে এটি তোমাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হবে।
৩। উমার (রা.) কর্তৃক জামাতে তারাবীহ প্রবর্তন
خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَيْلَةً فِي رَمَضَانَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِذَا النَّاسُ أَوْزَاعٌ مُتَفَرِّقُونَ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي أَرَى لَوْ جَمَعْتُ هَؤُلَاءِ عَلَى قَارِئٍ وَاحِدٍ لَكَانَ أَمْثَلَ، ثُمَّ عَزَمَ فَجَمَعَهُمْ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ
আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী বলেন, আমি হযরত উমার (রা.)-এর সাথে রমজানের এক রাতে মসজিদে গেলাম, দেখলাম লোকেরা বিক্ষিপ্তভাবে (আলাদা আলাদা) নামাজ পড়ছে। উমার (রা.) বললেন, আমার মনে হয় এদের সবাইকে একজন ক্বারীর পেছনে একত্র করলে ভালো হবে। অতঃপর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর ইমামতিতে একত্র করলেন।
১। সাওম আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ ইবাদত
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু সাওম ব্যতিক্রম; তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।
২। সাওম একটি ঢাল
الصِّيَامُ جُنَّةٌ
সাওম হলো একটি ঢাল (গুনাহ ও জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী)।
৩। রোজাদারের দুটি আনন্দ
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ
রোজাদারের জন্য রয়েছে দুটি আনন্দ: একটি ইফতারের সময়ের আনন্দ, অপরটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময় সাওমের কারণে আনন্দ।
১। প্রতিটি আমল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى
সমস্ত আমল নিয়াতের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়াত করেছে।
২। ফজরের পূর্বে নিয়াত করা আবশ্যক
مَنْ لَمْ يُبَيِّتِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَا صِيَامَ لَهُ
যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে (ফরজ) রোজার নিয়াত করেনি, তার সেই রোজা হয়নি।
নিয়াত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, বরং অন্তরে এই সংকল্প করাই যথেষ্ট যে, আগামীকাল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখা হবে। সাহরি খাওয়াই সাধারণত নিয়াতের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট বলে গণ্য হয়।
১। দ্রুত ইফতার করার ফজিলত
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তারা ইফতার করতে তাড়াহুড়া করবে (সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করবে)।
২। খেজুর দিয়ে ইফতার করার সুন্নত
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٌ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ
রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, তাজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর দিয়ে, আর তাও না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।
৩। রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব
مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا
যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমবে না।
১। রোজাদারের ইফতারের সময়ের দু'আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না
إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ
নিশ্চয়ই রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় এমন একটি দু'আ রয়েছে যা প্রত্যাখ্যাত হয় না।
২। তিনজনের দু'আ ফেরত দেওয়া হয় না
ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ
তিন ব্যক্তির দু'আ প্রত্যাখ্যাত হয় না - ইফতার না করা পর্যন্ত রোজাদারের দু'আ, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু'আ এবং মজলুমের দু'আ।
৩। ইফতারের সময়কার দু'আ
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
ক্ষুধা-তৃষ্ণা দূর হলো, রগ সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নিশ্চিত হলো।
১। সাহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত সীমার বিধান
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ
তোমরা পানাহার করতে থাক যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়, অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর।
২। ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
مَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ، وَمَنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করবে, তাকে (সেই রোজার) কাযা আদায় করতে হবে, আর যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে যায় তার উপর কাযা নেই।
৩। ভুলে পানাহার করলে রোজা ভাঙে না
مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ
যে ব্যক্তি রোজা রাখা অবস্থায় ভুলে পানাহার করে ফেলে, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে, কেননা আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।
সাধারণভাবে যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় তার মধ্যে রয়েছে - ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা, স্বামী-স্ত্রীর মিলন, ইচ্ছাকৃত বমি করা এবং ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব শুরু হওয়া। বিস্তারিত মাসআলার জন্য স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
১। অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্য ছাড়
وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে (রোজার) সংখ্যা পূরণ করে নেবে।
২। বৃদ্ধ ও অক্ষম ব্যক্তির জন্য ফিদিয়া
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ
যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয় (অতি বৃদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ), তাদের উপর একজন মিসকীনকে খাদ্য দেওয়ার বিধান (ফিদিয়া) রয়েছে।
৩। গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য ছাড়
إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ نِصْفَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য অর্ধেক নামাজ, এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য রোজার ছাড় দিয়েছেন।
রোজা না রাখার অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন - অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির, অতি বৃদ্ধ, দীর্ঘস্থায়ী রোগী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ঋতুবতী নারী। প্রত্যেকের বিধান ভিন্ন হতে পারে বিধায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
রোজা সম্পর্কে
রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং প্রতিটি সাবালক, সুস্থ মুসলিম নর-নারীর জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।
অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশনা
এই অ্যাপে আপনি সাহরি ও ইফতারের সময়, আরবি তারিখ, রোজার ফাযায়েল, দু'আ, হাদীস, মাসাইল, প্রবন্ধ, কিতাব এবং শিক্ষামূলক ভিডিও সহজেই দেখতে পারবেন। হোম পেজের মেনু থেকে পছন্দের বিভাগে ট্যাপ করে বিস্তারিত তথ্য জানুন।
যেকোনো পেজ থেকে পিছনের বাটনে চাপ দিয়ে আগের পেজে ফিরে যেতে পারবেন।