Back
ইসলামিক নাম
সুন্দর ও অর্থপূর্ণ নাম খুঁজে পান

পরিচয় ইসলামিক নাম

Boys Names
ছেলেদের নামের তালিকা।
Girls Names
মেয়েদের নামের তালিকা।
Baby
গর্ভাবস্থায়
১০টি পরামর্শ
New Born
শিশু ভুমিষ্ট
হওয়ার পর করনীয়
ID Card
নামকরণে
গুরুত্বপূর্ণ দিক
By Category
By Alphabet
গর্ভাবস্থায় ১০টি পরামর্শ
১
গোনাহ থেকে বিরত থাকুন

প্রিয় গর্ভবতী মা! গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ইবাদতের ফিকিরের চাইতে গোনাহ ছেড়ে দেয়ার ফিকির অধিক করাটাই হবে আপনার বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। আর এটা করতে হবে, আপনার ভেতরে বেড়ে ওঠা সন্তানের জন্যই।

যেমন, নাটক-সিরিয়ালপ্রীতি বর্জন করবেন, কণ্ঠস্বরকে সংযত করবেন, বিশেষ প্রয়োজন দেখা না দিলে ঘর হতে বের হবেন না। আপনার যে সকল গায়রে মাহরাম আত্মীয় রয়েছে, তাদেরকে আপনার সাথে দেখা সাক্ষাতের কিংবা পর্দা লংঘনের জন্য অনুমতি দেবেন না।

إنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْراً
কষ্টের সাথেই আছে সুখ। (সূরা আলাম-নাশরাহ: ৬)
২
ধৈর্য্য ধারণ করুন

অসুস্থতা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা প্রভৃতি কারণে ধৈর্য্যহারা হবেন না। এভাবে ভাবুন, 'এই সময়টার প্রতিটি মুহূর্ত আপনার জন্য জিহাদতূল্য ইবাদত'। এতে ধৈর্য্য ধারণ করা আপনার জন্য সহজ হবে। আপনার কষ্ট শক্তিতে পরিণত হবে।

الصَّبْرُ ضِيَاءٌ
সবর হল জ্যোতি। (মুসলিম: ২২৩)
৩
সময় মত নামাজ আদায় করুন

এসময়ে অস্থিরতা বেশি কাজ করে। আর যথাসময়ে নামাজ অন্তরকে প্রশান্ত রাখে। এজন্যই নামাজের সময় হলে নবীজী ﷺ বেলাল রাযি.কে বলতেন:

أَقِمِ الصَّلاةَ، أَرِحْنا بِهَا
নামাজের ব্যবস্থা কর এবং তার মাধ্যমে আমাকে তৃপ্ত কর। (আবু দাউদ: ৪৩৩৩)
৪
জিকির করুন

অস্থিরতা দূরীকরণের কুরআনি-ব্যবস্থাপনা এটি। এটা আপনাকে ও আপনার গর্ভের সন্তানকে শান্ত রাখতে সহায়ক হবে।

الَّذِينَ آَمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের মন প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়। (সূরা রাদ: ২৮)
৫
শোকর আদায় করুন

দেখুন, মা হওয়ার মাঝেই নারীজন্মের স্বার্থকতা। কত নারী এমন আছে, গর্ভবতী হওয়ার জন্যে বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করছে কিন্তু তাদের ভাগ্যে এই নেয়ামত জুটছে না। এজন্য যখনি মা হওয়ার আনন্দে পুলকিত হবেন তখনি আল্লাহর শোকর আদায় করুন।

وَٱشْكُرُواْ لِى وَلَا تَكْفُرُونِ
আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। (সূরা বাকারা: ১৫২)
৬
বেশি রাত পর্যন্ত জাগ্রত থাকা থেকে বিরত থাকুন

গর্ভাবস্থায় রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে স্বাস্থ্যহানী ঘটে। তাই ইশার নামাজ সময়ের শুরুতে পড়ে নিন। তারপর প্রয়োজনীয় কাজ সেরে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়ুন। দেরি করে ঘুমোতে যাবেন না। অন্তত এতটা আগে রাতের বিছানায় যেতে হবে যাতে করে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিন্তে যাওয়া যায় এবং ফজর যথাসময় পড়া যায়।

وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا
আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। (সূরা নাবা: ৯)
৭
ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন

কেননা দৈহিক সুস্থতা ও আত্মিক প্রশান্তির ক্ষেত্রে ওযুর ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষত, ঘুমানোর আগে ওযু করে নিবেন। এতে অনিদ্রার বিড়ম্বনা থেকে বাঁচা সহজ হবে।

إِذَا أَتَيتَ مَضْجَعَكَ فَتَوضَّأْ وضُوءَكَ لِلصَّلاةِ
যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাযের ওযুর মত ওযু করবে। (মুসলিম: ৪৮৮৪)
৮
আপনার সন্তানের জন্য কুরআন তেলাওয়াত করুন

প্রায় ২০ তম সপ্তাহে গর্ভের বাচ্চা শোনার সক্ষমতা অর্জন করে। মা প্রতিদিন কিছু কুরআন তেলাওয়াত করে বাচ্চার মাঝেও কুরআনের মাঝে সম্পর্ক জুড়ে দেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।

عَلَيْكُم بِالْقُرْآَن ، فَتَعَلَّمُوه وَعَلَّمُوه أَبْنَائِكُم ، فَإِنَّكُم عَنْه تُسْأَلُوْن ، وَبِه تُجْزَوْن
কুরআনের বিষয়ে তোমাদের উপর অবশ্য পালনীয় এই যে, কুরআন শিক্ষা করা এবং তোমাদের সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেয়া। কেননা এ বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তার প্রতিদানও দেয়া হবে। (শরহে সহীহ বুখারী, ইবন বাত্তাল: ৪৬)
৯
দোয়ার অভ্যাস করুন

গর্ভকালীন সময়ে মাঝে মাঝে অসহায়বোধ হয়। এমনও মনে হয়, না-জানি এবার আমি মরে যাব কিনা! তাই গর্ভকালীন সময়ে দোয়ায় বেশি লিপ্ত হতে হয়। কেননা এসময়ের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।

أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ
বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন। (সুরা নামল: ৬২)

তাছাড়া আপনি আপনার সন্তানের মা। আর মায়ের দোয়া কবুল হয়। সুতরাং নেক, সুস্থ ও সুন্দর সন্তান কামনা করে বার বার দোয়া করুন।

رَبِّ هَبْ لِىْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً‌ۚ اِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ
হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (আল 'ইমরান: ৩৮)
১০
আল্লাহর এ দু'টি গুণবাচক নাম পড়ুন

কোনো গর্ভবর্তী মহিলা যদি আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلْمُتَعَالِىْ) 'আল-মুতাআ'লি' এবং (اَلْمُبْدِئُ) 'আল-মুবদিয়ু' পড়তে থাকে তবে ঐ মহিলা তার গর্ভকালীন কষ্টক্লেশ থেকে মুক্তি পায়।

উক্ত দশ পরামর্শ মেনে চললে গর্ভবতী মা যেমন মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠবে, অনুরূপভাবে তার ভেতরে বেড়ে ওঠা সন্তানও 'নেক' হবে ইনশাআল্লাহ্।

শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর করণীয়

সন্তান জন্ম হওয়া যেমন আনন্দের, সে সন্তানের প্রাথমিক কাজগুলো সুন্নাতের আলোকে পালন করা আরো বেশি আনন্দের। কেননা এ সুন্নাতের অনুসরণ সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে সঠিক, সুন্দর জীবনের দিকে ধাবিত করবে।

১
আল্লাহর প্রসংশা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আল্লাহর প্রসংশা করা ও তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা এবং সন্তানের জন্য কল্যাণের দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। (সুরা ইবরাহিম: ৩৯)
২
নবজাতকের ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামাত দেয়া

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম কাজ হলো নবজাতকের ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামাত দেয়া।

হযরত আবু রাফে রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "ফাতেমার ঘরে হাসান ইবনে আলি ভূমিষ্ঠ হলে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার কানে আজান দিতে দেখেছি।" (আবু দাউদ, তিরমিজি)

৩
নবজাতকের নাম রাখা

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রথম দিন বা সপ্তম দিন নবজাতকের নাম রাখা সুন্নত। নবজাতকের সুন্দর নাম রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নিজ নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে আহ্বান করা হবে, অতএব তোমরা তোমাদের (সন্তানদের) নাম সুন্দর করে নাও।"

৪
আকিকা দেয়া (সপ্তম দিনে)

নবজাতকের বয়স ৭ দিন হলে আকিকা দেয়া সুন্নত।

হযরত সামুরা রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। অতএব সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, তার চুল কাট ও তার নাম রাখ।'" (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কেউ ৭ দিন পর আকিকা দিতে না পারে তবে সে ১৪ কিংবা ২১ দিন পর আকিকা করবে। যদি তাতেও সমর্থ না হয় তবে পরে তা আদায় করে নেবে।

৫
মাথা মুণ্ডন ও রূপা দান করা

নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিন মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজন পরিমাণ রূপা (অর্থ) দান করা সুন্নত।

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তম দিন হাসান ও হুসাইনের চুল কাটার নির্দেশ দেন এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করেন।" (তিরমিজি)

৬
মাথায় জাফরান লাগানো

নবজাতকের মাথা মুণ্ডনের পর মাথায় জাফরান লাগানোও সুন্নত। এটি শিশুর ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৭
তাহনিক করা (খেজুর দিয়ে)

তাহনিক অর্থাৎ নবজাতকের মুখে খেঁজুর চিবিয়ে দেয়া। ইমাম নববি বলেন, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে খেজুর দিয়ে তাহনিক করা সুন্নত।

হযরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন, 'তোমার সঙ্গে কি খেজুর আছে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর চিবালেন, অতঃপর তা বের করে বাচ্চার মুখে দিলেন। বাচ্চাটি জিব্বা দিয়ে চুষে চুষে ও ঠোটে লেগে থাকা অংশ চেটে খেতে লাগল।" (মুসলিম)

৮
খৎনা করা (সপ্তম দিন পর)

সন্তান ভূমিষ্ঠের ৭ দিন পর খৎনা করা সুন্নত।

হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সপ্তম দিন হাসান এবং হুসাইনের আকিকা দিয়েছেন ও খাৎনা করিয়েছেন।" (তাবারানি, বায়হাকি)

বিশেষ তথ্য: নবজাতকের জন্মের ৭ দিন থেকে শুরু করে ৩ বছরের মধ্যে খৎনা করা উত্তম। আর ৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই খৎনা করে নেয়া ভালো। তবে সাবালক হওয়ার আগেই খৎনা করা জরুরি।

এই সকল সুন্নত মেনে চলা শুধুমাত্র ধর্মীয় কর্তব্যই নয়, বরং নবজাতকের সুস্থ ও সুখী জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি পদক্ষেপ শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নামকরণে লক্ষণীয় দিক

নাম হলো একজন মানুষের পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম। সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা প্রত্যেক পিতা-মাতা, কিংবা অভিভাবকের ওপর দায়িত্ব ও কর্তব্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অসংখ্য হাদীস দ্বারা সুন্দর নামের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।

সুন্দর নামের প্রভাব সন্তানের জীবনে প্রতিফলিত হয়, এবং খারাপ নামের বদ আছর বাস্তবায়িত হয়। আপনি আপনার সন্তানের যে নাম রাখবেন হাশরের ময়দানে আল্লাহ তাআলা এ নামেই ডাকবেন।

হাশরের ময়দানে নামে আহ্বান

হযরত আবুদ দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে

কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে- অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখ। (আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯৪৮)

অসুন্দর নাম পরিবর্তন করা সুন্নত

কারও নাম অসুন্দর হলে নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখতেন। হাদীস শরীফে এ ধরনের একাধিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উমর রা.এর মেয়ের নাম পরিবর্তন:

হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত ওমর রা.এর এক মেয়ের নাম ছিল 'আছিয়া' (অর্থ: অবাধ্য, নাফরমান)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে রাখলেন 'জামিলা' (অর্থ: সুন্দর)। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৩৯)

কারণ আছীয়া অর্থ অবাধ্য, নাফরমান ইত্যাদি—সে জন্য রাসূল এ নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন।

নামের অর্থের প্রভাব ব্যক্তিত্বে

নামের অর্থ মানসিক ও স্বভাবের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। নবীজী একবার 'হাযান' নামের এক ব্যক্তির সাথে দেখা করেন।

'হাযান' থেকে 'সাহল' নামকরণ:

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বর্ণনা করেন: "আমার দাদা 'হাযান' (কঠোর জমি) একবার নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন। নবীজী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? দাদা বললেন, আমার নাম হাযান। নবীজী বললেন— না, তুমি হচ্ছ 'সাহল' (নরম জমি)। দাদা বললেন, আমার বাবা আমার যে নাম রেখেছেন আমি তা পরিবর্তন করব না।"

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: এর ফল এই হল যে, এরপর থেকে আমাদের বংশের লোকদের মেযাজে রুঢ়তা ও কর্কশভাব রয়ে গেল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৬৪)

আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং অপ্রিয় নাম

হাদীসে এসেছে নবীগণের নামে নাম রাখার কথা। আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষভাবে প্রিয় ও অপ্রিয় নাম রয়েছে।

تسمّوا بأسماء الأنبياء

সেরা নাম:

  • আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম: আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান
  • সবচেয়ে সত্য নাম: হারেস ও হাম্মাম

সবচেয়ে খারাপ নাম:

  • হারব (যুদ্ধ) এবং মুররাহ

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৫০)

গর্বের নাম অপছন্দনীয়

অহংকার ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায় এমন নাম নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত অপছন্দ করতেন।

মালিকুল আমলাক নাম হারাম:

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হবে ঐ ব্যক্তির নাম, যে 'মালিকুল আমলাক' (রাজাধিরাজ) নাম ধারণ করেছে।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬২০৫)

তাৎপর্য: এই ধরনের নাম শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য উপযুক্ত কারণ তিনিই সত্যিকারের মালিক এবং সর্বোচ্চ শক্তির অধিকারী।

আধুনিক সমস্যা ও সমাধান

আজকাল আমাদের মাঝে অনেকেই শুধু অপ্রচলিত ও বিশেষ নাম খোঁজার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো:

  • নামের অর্থ কী?—এ দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই
  • নামটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য কিনা?—এটি যাচাই করা হয় না
  • নামটি শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে কী ভূমিকা রাখবে?—এটি চিন্তা করা হয় না

হাদীসে আমাদেরকে এ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যে, নাম রাখার সময় আমরা যেন অর্থের দিকে লক্ষ রাখি। নিজে না বুঝলে যিনি বুঝেন তার শরাণপন্ন হই।

সংক্ষেপে: সুন্দর, অর্থবোধক এবং ইসলামিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাম রাখা শুধুমাত্র সুন্নত নয়, বরং আপনার সন্তানের সুস্থ বিকাশ এবং সফল জীবনের চাবিকাঠি। তাই নাম নির্বাচনের সময় অত্যন্ত সাবধান ও যত্নশীল হোন এবং সর্বদা আল্লাহর হিকমতকে মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন।